গোপালগঞ্জের কাজুলিয়া সড়কের বেহাল দশা : ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ

এম আরমান খান জয় : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় কাজুলিয়া ইউনিয়নে অধিকাংশ সড়কই কাঁচা। দীর্ঘদিনেও সড়কের কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা মাটিতে একাকার হয়ে যায় মাটির রাস্তাটি। ফলে ভোগান্তিতে রয়েছেন ওই এলাকার অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

পাকা রাস্তা না থাকায় জনবসতির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাটির রাস্তায় চলাচল করছেন তারা। মেরামতের অভাবে তাও এখন চলাচল অযোগ্য। মেরামত করে চলাচল যোগ্য করে তোলার প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় কাজুলিয়া ইউনিয়নে ৭ নং ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ী থেকে জামে মসজিদ গিয়ে রাস্তাটি শেষ হয়। এই একটি পথই ওই এলাকার মানুষের চলাচলের একমাএ রাস্তা ।

রাস্তাটি ইউনিয়নের ব্যস্ততম রাস্তা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে। দীর্ঘ কয়েক যুগ আগে নির্মিত এই মাটির রাস্তা কখনো পূর্নসংস্কার হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে যাতায়াত ব্যবস্থা মোটরসাইকেল ভ্যান ও অটোগাড়ি ব্যবহার হয়। অনেক কষ্টে ভাঙ্গা চুরা রাস্তায় বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করে এলাকার মানুষ। বর্ষা শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় ওই সব বাহন। মানুষকে চলাচল করতে হয় পায়ে হেঁটে। সামান্য বৃষ্টির হলে কাঁদামাটিতে একাকার হয়ে যাতায়াত অযোগ্য হয়ে পরে রাস্তাটি।
দ্দধু তাই নয়, মেরামতের অভাবে মাঝেমাঝে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। উচ্চতার দিক দিয়েও তা যথেষ্ট নয়। মাঝেমাঝে এতো নিচু যে, প্রাকৃতিক যে কোনো দুর্যোগে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি একটু বেশি হলে তলিয়ে যায় ।

স্থানীয় সমাজ সেবক মিজানুর রহমান প্রিন্স জানান, দীর্ঘদিনেও রাস্তা উন্নয়ন বা সংস্কার করা হয়নি। বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা নদীর মতো হয়ে যায়। দূর থেকে তাকালে নদী মনে হয়। রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে মানুষ চলাই কঠিন। রাস্তার বেহাল দশার কারণে স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চরম কষ্টে প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। এ যেন ভোগান্তির শেষ নেই। রাস্তাটি উন্নয়ন বা সংস্কার হলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ চলাচলের পথ সুগম হবে।

কাজুলিয়া ইউপি নারী সদস্য নাছিমা বেগম জানান, এখানের রাস্তাঘাট অনুন্নত থাকায় এই গ্রামের মানুষকে খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই এলাকার মানুষের চলাচলের একমাএ পথ এই রাস্তাটি তাই সবদিক বিবেচনায় এই রাস্তাটি অতি দ্রুত উন্নয়ন করা দরকার।

কাজুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাখন লাল দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার আবেদন পাঠিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। তবে সরকার এখন যেভাবে উন্নয়নের কাজ করছে, তাতে কোনো রাস্তাই অনুন্নত থাকার কথা নয়।