কে হচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল

কে হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা-অ্যাটর্নি জেনারেল। এ নিয়ে বিচারাঙ্গনে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক এই পদে সরকার কাকে নিয়োগ দেবে-এ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সর্বত্র। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা মাহবুবে আলম সম্প্রতি মারা যাওয়ায় পদটি এখন শূন্য রয়েছে। তার মৃত্যুর পর থেকে সরকারও নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের পক্ষে কাজ শুরু করেছে।

জানা গেছে, মাহবুবে আলমের অবর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শ ম রেজাউল করিমকে ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হওয়ায় আওয়ামী পন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরাট শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। তারপরও সরকার অত্যন্ত দক্ষ এবং সৎ একজন আইনজীবী খুঁজছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসি। এ ছাড়া সিনিয়র অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, মোমতাজ উদ্দিন ফকির এবং সম্প্রতি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট এসএম মুনীরের নামও আলোচনায় আছে। নারী আইনজীবীদের মধ্য থেকেও অ্যাটর্নি জেনারেল পদের জন্য নাম এসেছে ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরের।

সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।’ (২) ‘অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।’ (৩) ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাহার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।’ (৪) ‘রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুয়ায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।’

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এ পদ পূরণে পেশাদার আইনজীবীদের মধ্য থেকে যোগ্য এবং উপযুক্ত ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেয়া হবে। জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের শূন্যপদে নিয়োগ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি, দেখা যাক…।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা জায়গা খালি হলে প্রতিযোগিতা তো হবেই।’

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিনের নাম আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দখলে থাকা সুপ্রিমকোর্ট বারের নেতৃত্ব ছিনিয়ে নিয়ে তিনি পরপর দু’বার সভাপতি হয়েছেন। সদালাপী এই আইনজীবী ইতোমধ্যে সবার প্রিয়ভাজন হয়েছেন। ফলে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তার নিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলছেন অনেকে।

মুরাদ রেজাও অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। কারণ, তার দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের অবর্তমানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। অতীতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার নজিরও রয়েছে।

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন-এমন গুঞ্জনও রয়েছে। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র আইনজীবী যিনি ব্রিটেনের কুইন্স কাউন্সিল থেকে কিউসি পদধারী। বিভিন্ন সময় অ্যাটর্নি জেনারেল পরিবর্তনের গুঞ্জনে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকীর নামও আলোচনায় এসেছে। এই আইনজীবীর সততা ও দক্ষতার সুনাম রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীও অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ মনসুরুল হক চৌধুরীর সংশ্লিষ্ট মহলে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের তালিকায় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীরের নামও শোনা যাচ্ছে। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুনীর করোনাকালে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়টিকে অনেকে তার ওপর সরকারের সুদৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকার (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরের নামও শোনা যাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী সরকার দেশের প্রথম নারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরকেও নিয়োগ দিতে পারে।

বাংলাদেশের ১৩তম অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।