আসছেন কারা বেফাকের নেতৃত্বে?

আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের নেতৃত্ব ঠিক করতে বৈঠকে বসছেন কওমি আলেমরা।

শনিবার যাত্রাবাড়ীর কাজলায় অবস্থিত বেফাকের কেন্দ্রীয় অফিসে মজলিসে আমেলার এ বৈঠকেই পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত হতে পারে।

সূত্র মতে, কওমি মাদ্রাসার সরকার স্বীকৃত সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেফাকের সভাপতিই হবেন আল-হাইয়াতুল উলইয়ার সভাপতি।

একইভাবে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি হবেন আল হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান। সে হিসেবে বেফাকের শূন্য পদগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে খালি হওয়া আল হাইয়াতুল উলইয়ার পদও পূর্ণ করা হবে বলে জানা গেছে।

বেফাকের সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী হবে? জানতে চাইলে বেফাকের প্রভাবশালী সহ সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস যুগান্তরকে বলেন, শনিবার কোনো নির্বাচন হবে না বরং শীর্ষ দায়িত্বশীলদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকালে যে শূন্য পদ সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ করা হবে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি বেফাকের অতীত ঐতিহ্য, স্বকীয়তা ও কাজের গতি স্বাভাবিক রাখার জন্য এমন কেউ দায়িত্বে আসা উচিত যিনি শুরু থেকে বেফাকের জন্য শ্রম-ঘাম দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেফাকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কেউ বেফাকের এই শীর্ষপদগুলোতে আসতে পারবে না।

সভাপতি হওয়ার দৌড়ে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও আছেন। তবে বেফাকের গঠনতন্ত্র মানলে তাদের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার সুযোগ কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ জন্য পদ আগ্রহী যারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত তারা রাজনৈতিক পদ-পদবি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।

বেফাকের চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন? এ বিষয়ে বেফাকের দায়িত্বশীলদের কেউই এ মুহূর্তে মিডিয়ায় তাদের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ করতে চাননি

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের সভাপতি পদে তিন–চারজনের নাম আলোচনায় আছে।

তাদের মধ্যে বেফাকের চেয়ারম্যান পদে ঢাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এবং দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নাম বেশি আলোচনায়।

তবে নূর হোসাইন কাসেমী সরাসরি রাজনৈতিক দল ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এখনই সভাপতি হতে পারবেননা।

এ জন্য তাকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব পদ ছাড়তে হবে।

বেফাকের বর্তমান সহ-সভাপতি ময়মনসিংহের মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জী ও ফেনী ওলামাবাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল ইসলাম আদীবের কথাও কেউ কেউ বলছেন।

এক্ষেত্রে যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা মাহমুদুল হাসান সবদিক বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছেন বলে অনেক কওমি আলেম মনে করছেন।

সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না থাকার পাশাপাশি সারা দেশের আলেমদের মধ্যে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া অতীতে তাকে নিয়ে তেমন বিতর্কও দেখা যায়নি।

সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের চৌধুরি শুক্রবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, অতীতে মজলিসে আমেলার বৈঠকে কণ্ঠভোটেই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। সে হিসেবে অধিকাংশের মতের ভিত্তিতেই এটি নির্ধারিত হবে। তবে কাল যদি কোনো সিদ্ধান্তে না আসা যায়, তাহলে উপস্থিত সবাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

সভাপতি পদে সম্ভাব্য কয়জন প্রার্থী রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে আগে প্রার্থী হওয়ার রেওয়াজ নেই। তবে বিভিন্ন আলোচনায় যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা মাহমুদুল হাসান, বারিধারা মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ও ময়মনসিংহের মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জীর কথা শোনা যাচ্ছে।

এদিকে বেফাকের মহাসচিব পদে আলোচনায় আছে সিলেটের গওহরপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হকের নাম।

বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক মহাসচিবেরদৌঁড়ে এগিয়ে থাকলেও সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এখনই মহাসচিব হতে পারবেননা।

এ জন্য তাকে খেলাফত মজলিশের মহাসচিবের পদ ছাড়তে হবে।

অন্যদিকে মুসলেহ উদ্দিন রাজু বর্তমানে বেফাকের সহসভাপতি হওয়ার পাশাপাশি তার পক্ষে তরুণদের একটি আকৃষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০০৫ সালে বেফাকের সভাপতি নির্বাচিত হন আল্লামা আহমদ শফী এবং ২০১৭ সালে নির্বাচিত হন আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান।

কওমি আলেমরা বলছেন, এতদিন হাটহাজারী মাদ্রাসা, বেফাক-হাইয়া ও হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব এককেন্দ্রিক থাকলেও এখন তিনটি আলাদাভাবে পরিচালিত হবে।

কারণ আল্লামা শফীর মতো সর্বজনমান্য এমন কেউ নেই। তাই এসব পদে সবার গ্রহণযোগ্য এবং রাজনৈতিক কোনো অভিলাষ নেই এমন কাউকে নির্বাচিত করতে হবে।