কাবা ঘরে স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারই রীতি ভেঙে, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন করেছে কাবা পরিচর্যা ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে চলে গেলে গিলাফ পরিবর্তনের কথা ছিল। কিন্তু রীতি ভেঙে গতকাল বুধবার রাতে পুরোনো গিলাফ বদলে নতুন গিলাফ লাগানোর কাজ শুরু হয়।

সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাবাক নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন গিলাফ লাগানোর কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টি শুরু হয়। তবুও কাজ বন্ধ করা হয়নি। অব্যাহত প্রচেষ্টায় টানা ৫ ঘণ্টা সময়ে হারামাইন শরিফাইনের সভাপতির তত্ত্বাবধানে গিলাফ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ করেন এ কাজে নিয়োজিত বিশেষ কর্মীরা।

সৌদির বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, গিলাফ পরিবর্তনের কাজে অংশ নেয় সৌদির প্রভাবশালী অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান।

এর আগে কাবার নতুন গিলাফ বাদশা আবদুল আজিজ কিসওয়া কমপ্লেক্স থেকে অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত একটি বিশেষ ট্রাকে করে সুসজ্জিত বহরের মাধ্যমে মসজিদে হারাম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে যাবতীয় সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা হয়।

কাবা শরিফের নতুন এই গিলাফে ৬৭০ কেজি খাঁটি রেশম, ১২০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ এবং ১০০ কেজি রূপার সুতা ব্যবহার করা হয়েছে। স্বর্ণের সুতা দিয়ে গিলাফের বিভিন্ন অংশে কোরআনের আয়াত লেখা হয়েছে।

জানা যায়, গিলাফে ব্যবহৃত খাঁটি রেশম আনা হয়েছে ইতালি থেকে এবং স্বর্ণ জার্মান থেকে। অনুমান করা হচ্ছে, কাবার নতুন গিলাফের কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ২২ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল খরচ হয়েছে।

দুই শতাধিক শ্রমিক সারা বছর কাবার গিলাফ তৈরির কাজে নিয়োজিত থাকেন। গিলাফটি খুব টেকসই ও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়। যেন রোদ-বৃষ্টিতে গিলাফ নষ্ট না হয়।

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে দেশ-বিদেশের সীমিত সংখ্যক হজযাত্রী নিয়ে এবারের হজের আয়োজন করেছে সৌদি সরকার। ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তাররোধে নজিরবিহীন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে হজ পালনের জায়গাগুলোতে।