যৌন হয়রানিকালে মেয়েটি ঝাঁপ দিল জলে

নিজস্ব প্রতিবেদক:-লঞ্চকর্মীদের যৌন হয়রানির মুখে আত্মঘাতীর সিদ্ধান্ত—এমনটাই দাবি প্রাণে বেঁচে যাওয়া কিশোরীর (১৫)। মুহূর্তেই সে লঞ্চ থেকে ঝাঁপ দেয় উত্তাল মেঘনায়। জেলেরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান হাসপাতালে। এখন কিছুটা সুস্থ হলেও আতঙ্কের ছাপ কাটেনি। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে তার ঠাঁই হয়েছে থানায় পুলিশের হেফাজতে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট থেকে এমভি কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চ ঢাকা যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরী তজুমদ্দিন উপজেলার স্লুইস ঘাট থেকে ওঠার পর ঘাটের কাছেই নদীতে ঝাঁপ দেয়। মেয়েটি বলছে, যৌন হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে সে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল। তবে লঞ্চকর্মীদের দাবি, ঢাকায় এক বাসায় গৃহকর্মীর কাজ থেকে চুরি করে পালিয়ে আসায় মেয়েটিকে আটকের চেষ্টা করা হলে সে নদীতে ঝাঁপ দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় লঞ্চের তিন স্টাফকে আটক করা হয়েছে। তবে কিশোরীর পরিবার এগিয়ে না আসায় মামলায় বিলম্ব হচ্ছে। এমনকি কিশোরীকে সেফ হোমে পাঠানো যাচ্ছে না।

পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই কিশোরী জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় সে তজুুমদ্দিনের লঞ্চঘাটে নোঙর করা ঢাকাগামী কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে উঠে পা ধুতে ডেকের পেছনে যায়। সেখানে কাজ করছিলেন লঞ্চের বাবুর্চি গিয়াসউদ্দীন। প্রায় ১৫ দিন আগে গিয়াসউদ্দীনের মাধ্যমে ওই কিশোরী ঢাকার মিরপুরে গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিল। মিরপুরের বাসা থেকে সে একটি মোবাইল ফোনসেট নিয়ে পালিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। ৩০০ টাকায় সেটি বিক্রির পর পরিবারের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে ফের লঞ্চে ঢাকায় যাচ্ছিল সে। ওই মোবাইল ফোনসেটের বিষয়ে জানতে চান গিয়াসউদ্দীন। তিনি একপর্যায়ে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দেন। তখন মেয়েটি সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে গিয়াস তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তখন সে নদীতে ঝাঁপ দেয়।

পুলিশ হেফাজতে থাকা গিয়াসউদ্দীন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, পূর্বপরিচিত ওই কিশোরীকে তিনি মিরপুরে গৃহপরিচারিকার কাজ দেন। শনিবার লঞ্চে তার সঙ্গে দেখা হলে মোবাইল চুরির বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে মিরপুরের ওই বাসায় ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললে কিশোরী নদীতে ঝাঁপ দেয়।