শীতের সরিষা ফুলের অভ্যর্থনায় সবাই মুগ্ধ

প্রকৃতিকে রিক্ত করে দেয় – এমন বদনাম গায়ে লেপ্টে দেওয়া হলেও শীতকাল আসলে বাহারি ফুলে দারুণভাবে বর্ণিল এক ঋতু।

এ কালে বাগানের হরেক রঙের ফুলের সাথে পাল্লা দেয় ফসল ক্ষেতের ফুলের মেলা। খেসারীর নীল ফুল আর মটরশুটির গোলাপী ফুল দেখলে সবারই ভাল লাগে। তবে এসব সৌন্দর্য ছাপিয়ে সব সৌন্দর্য পিয়াসীর চোখ জুড়িয়ে মন ভরিয়ে দেয় যে ফুলের সমারোহ, তা সরিষা ফুল।

এখন শীতকাল। সরিষা ফুলের দিগন্ত বিস্তৃত হলুদে সেজে উঠেছে গ্রাম বাঙলার প্রকৃতি। নাগরিক জীবনে হাঁপিয়ে উঠলে একটু সময় করে হলুদের এ রাজ্য থেকে ঘুরে আসতে পারেন। হলপ করে বলতে পারি, মুগ্ধ আপনি হবেনই। ভোরবেলা বিন্দু বিন্দু শিশির থাকে হলুদ ফুলের শরীরজুড়ে। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তার মতো ঝিকমিকে শিশির কণা গড়িয়ে নামে। সকালের রোদে ঝলমল করতে থাকে মাঠ ভর্তি হলুদ সরিষা ফুল। যতদূর চোখ যায় কেবল হলুদ আর হলুদ। যেন সবুজ মাঠজুড়ে রঙের আগুন লেগেছে! সকালের পর দুপুর পেরিয়ে ধীরে ধীরে বেলা গড়িয়ে নামে বিকেল। বিকেলের ‘কন্যাসুন্দর’ আলোয় হলুদ ফুলগুলোর রূপ যেন আরও খোলে। মিষ্টি বাতাসে দুলে দুলে ওঠে ফুলের ডগা। শেষ বিকেলে ফিরে আসতে শুরু করে শিশিরের দল। জমিয়ে বসে ফুলে। মানুষ সৌন্দর্যপিয়াসী।

যে-কোন অবস্থাতেই থাকুক, সুন্দরের কদর তারা করবেই। যদি সেই সৌন্দর্যের সাথে মেলবন্ধন ঘটে সুঘ্রাণের, তাহলে তো মানুষ আরও বেশি আকৃষ্ট হয়। ফুলে ছাওয়া সরিষা ক্ষেতের অপার সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেও ঘটে এমনটাই। ফুলের রূপ আর মিষ্টি ঘ্রাণ সৌন্দর্যপিপাসুদের টেনে নিয়ে যায়। এসব লোকের অনেকেই সেলফী তোলার সুযোগ হাতছাড়া করে না। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের পাচুড়িয়া এলাকায় সরিষা ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় এই অপরুপ দৃশ্য । যা সকলের মন কেড়ে নিয়েছে।