এই বাংলাদেশকে চিনতে কষ্ট হচ্ছে পাপনের !

বিশেষ সংবাদদাতা,নিরাপত্তা নিয়ে ছিল তুমুল সংশয়। এ কারণে পাকিস্তান সফরে ক্রিকেটারদের সঙ্গেই ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। উদ্দেশ্যে সঙ্গে থেকে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার চিন্তা থেকে নির্ভার করা, সাহস দেয়া। কিন্তু তার এসব উদ্যোগ মোটেও কাজে আসেনি। তিন ম্যাচের দুটি মাঠে গড়িয়েছে। দুটিতেই ভরাডুবি ঘটেছে বাংলাদেশের। শেষটি বৃষ্টির কারণে মাঠেই গড়ায়নি।

লাহোরে একেবারে সামনে থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অসহায় আত্মসমর্পন দেখেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। যে বড় মুখ করে তিনি পাকিস্তান গেলেন, পিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক কিংবা এক সঙ্গে বসে খেলা দেখলেন, ম্যাচ কিংবা সিরিজ শেষে সেই বড় মুখ আর তার ছিল না। দলের পরাজয়ের লজ্জা স্পর্শ করে গেছে তাকেও।

পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার পর আজ বিকেলে বেক্সিমকোতে নিজ কার্যালয়ে মিডিয়ার মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে অনেক কথাই তিনি বলেছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তখনই বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চরম হতাশা ফুটে ওঠে বিসিবি সভাপতির মুখে।

এক কথায় তিনি জানিয়ে দেন, ‘এই বাংলাদেশ দলকে চিনতে খুব কষ্ট হয়েছে। এ আবার কোন বাংলাদেশ?

বিসিবি সভাপতির কণ্ঠে আক্ষেপ, লড়াইয়ের ছিটে-ফোটা পর্যন্ত দেখেননি তিনি বাংলাদেশ দলের খেলায়। তিনি বলেন, ‘হেরে গেলেও আমরা যেমন খেলি, এই সিরিজে তার কিছুই দেখা যায়নি। নিজেদের মত করে খেলতেই পারিনি। এমন পরিস্থিতি আমার চোখেই পড়েনি যে, বিনা উইকেটে ৯৬ থেকে আমরা ১৩০-১৪০ এ আটকে গেছি। ১২-১৩ ওভারের পরে গিয়েও আমরা রানের গতি বাড়াতে পারিনি। ১৩০-১৪০ এ গিয়ে থেমে গেছি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ নিয়ে অনেকগুলো উপলব্ধি জমা হয়েছে বিসিবি সভাপতির মনে। তিনি বলেন, ‘এই সিরিজে অনেকগেুলো উপলব্ধি হয়েছে আমার। প্রথম উপলব্ধি হলো, ১৩০-১৪০ এমনকি ১৫০ রান করেও আজকাল টি-টোয়েন্টিতে জেতা যায় না; কিন্তু পাকিস্তানে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আমরা তার চেয়েও কম রান করেছি। আমার মনে হয়, আমরা উইকেট চিনতে গিয়ে কিংবা উইকেটের আচরণ বুঝতে গিয়েও ভুল করেছি। আমরা প্রথম ম্যাচ ভেবেছি ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। কিন্তু পরে দেখা গেছে সে উইকেট স্লো। পরের ম্যাচে ব্যাটিং উইকেট ভেবে আগে ব্যাটিং নিয়ে দেখি উইকেট আদর্শ টি-টোয়েন্টির না।

টস জিতে ব্যাটিং না ফিল্ডিং- এ সব বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিসিবি সভাপতি বেশ নাখোশ। টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে ১৩৬ রানে আটকে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বিসিবির বিগ বসের মন। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, আসলে সিদ্ধান্তটা কে নেয়? টস জিতে ব্যাটিং নেবে কি নেবে না, টস জিতলে কি করবে- এসব সিদ্ধান্ত কে নেয় এটা নিয়ে আমি কনফিউজড। রিয়াদ তো এমনিতেই খুব কম কথা বলে, তারপরও আমি তামিম ও রিয়াদের সঙ্গে প্রচুর কথা বলেছি। প্রথম ম্যাচের পর এমনকি দ্বিতীয় ম্যাচের পরও।

কোচের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা উদঘাটন করার কথাও বলেন তিনি। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘মোটকথা বলতে পারেন, ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমার দুই ম্যাচ এবং আনুসঙ্গিক বিষয নিয়ে কথা হয়েছে। তবে কোচের সঙ্গে এখনও কথা হয়নি। কোচের সাথে বসলে কথা বললে জানা যাবে, সিদ্ধান্তটা কে নিচ্ছে এবং কেন এই ভুলগুলো হচ্ছে?