অর্থনীতিইসলাম ও জীবন

ঝুঁকিতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় চলছে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ। এ অবস্থায় ঝুঁকিতে পড়েছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে প্রবৃদ্ধি বিতর্ক। চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) সরকারের প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পৃথকভাবে যে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে, তা সরকারি লক্ষ্যের অনেক নিচে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর সংক্রমণ এবং মৃত্যু দুটোই বেশি। এভাবে চলতে থাকলে অবশ্যই তা উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেটির ফল দাঁড়াবে কম প্রবৃদ্ধি অর্জন। তবে গত অর্থবছর পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ হলেও চূড়ান্ত হিসাবে সেটি আরও কমেছে বলে জানা গেছে। এই হিসাব অনুমোদনের জন্য বর্তমানে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেটি ন-আসা পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাব চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সোমবার যুগান্তরকে বলেন, অবশ্যই জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর বর্তমান কোভিড পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের যে লক্ষ্য, সেটি অর্জন একেবারেই অসম্ভব। গত অর্থবছরের পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছিল, ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। সেটিও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কেননা, বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইতোমধ্যে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অনেক বন্ধ। সেইসঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বলতে গেলে শুধু কৃষিখাতটি এখনো ঠিক আছে। কিন্তু জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১৫ শতাংশের নিচে। তাই বলা যায়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর ভালো রকমের অভিঘাতই আসবে।
সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এ বছর বাড়তে পারে। তবে সেটি ২০২১ সালে হতে পারে ৫ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত ১২ এপ্রিল ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ দশমিক ৬ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক প্রতিবেদন আমরা তৈরি করে রেখেছি। যেটি আগামী মে মাসে প্রকাশের কথা। কিন্তু সেটিতে ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ পর্যন্ত হিসাব পাওয়া যাবে। তবে চলমান কোভিড মহামারি পরিস্থিতির প্রভাব প্রাথমিক হিসাবে পড়বে না। সেটির প্রতিফলন ঘটবে চূড়ান্ত হিসাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হয়ে এলেই সেটির ওপর ভিত্তি করে চলতি অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাব চূড়ান্ত করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে কম হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, গত বছরের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি কেবল খাদ থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল অর্থাৎ পুনরুদ্ধার হচ্ছিল। এর মধ্যে কোভিডের বর্তমান দ্বিতীয় ঢেউ আসায় আবারও অর্থনীতি পিছলে পড়েছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, এডিপির মাধ্যমে সরকারি ব্যয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে। সেখানে কোনো প্রবৃদ্ধি নেই। রপ্তানি ১ শতাংশেরও কম অর্থাৎ ফ্ল্যাট অবস্থায় রয়েছে। মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি নেতিবাচক, ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে। এর মধ্যে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রশ্নই ওঠে না। এক্ষেত্রে ১-২ অথবা ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেটি ভালো হবে।

এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button