আলী যাকেরকে শেষ শ্রদ্ধা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে, দাফন বনানী কবরস্থানে

লাখো ভক্ত অনুরাগীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়িয়ে জমিয়েছেন বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকের। আজ শুক্রবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আলী যাকেরের ছেলে, অভিনেতা ইরেশ যাকের জানিয়েছেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত এ অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আলী যাকেরের মরদেহ সেখানে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মরদেহ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে আলী যাকেরের প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বনানীতে। বনানী কবরস্থান জামে মসজিদে বাদ আসর দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে সেখানের কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে।

ইরেশ যাকের বলেন, ‘করোনাভাইর কারণে বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে নেওয়া হচ্ছে না। সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন।’

কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের। বার্ধক্যজনিত নানা রোগেও ভুগছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রতনপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আলী যাকের। ১৯৭২ সালের আরণ্যক নাট্যদলের ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে তার পথচলা শুরু। ‘বহুব্রীহি, ‘আজ রবিবার’ সহ বহু নাটকে তার অভিনয় দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছে। মঞ্চেও তিনি একজন জাদরেল অভিনেতার ছিলেন। টিভি নাটকের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পান হুমায়ুন আহমেদের ‘আজ রবিবার’ নাটকে বড় চাচা চরিত্রের মাধ্যমে।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার আলী যাকেরকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন।