গোপালগঞ্জের সবজিতে স্বস্তি আসছেই না !!

নিজস্ব প্রতিবেদক,আজকে গোপালগঞ্জে ছিল সাপ্তাহিক হাটের দিন। গোপালগঞ্জ বাজারে ছোট একটি লাউ দেখিয়ে নিশিতা দোকানির কাছে দাম জানতে চাইলেন। উত্তরে দোকানি বললেন ৬৫ টাকা। দাম শুনে নিশিতা বললেন- এইটুকু লাউয়ের দাম এতো? ৪০ টাকা রাখেন। দোকানির জবাব, ৪০ টাকা তো দুরের কথা ৫০ টাকাতেও হবে না আফা । আপনি যদি নেন ৫ টাকা কম রাখা যাবে, এক দাম ৬০ টাকা। এবার নিশিতা ললেন- ৪০ টাকায় দিলে দেন, না দিলে থাক। দোকানির উত্তর- নিয়া লাগবেনা আফা রেখে যান খদ্দেরইর অভাব নাই ।

এরপর হাত থেকে লাউ রেখে অন্য দিকে হাঁটা শুরু করলেন নিশিতা। এ সময় টুঙ্গিপাড়া নিউজের এই প্রতিবেদক নিশিতার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, শীতের সময় লাউ খুব ভালো লাগে টাকি মাছ দিয়ে লাউ রান্না করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু লাউয়ের যে দাম, তাতে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব না। তাই লাউ না কিনে ফিরে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, শুধু লাউ না বাজারে সব জিনিসের দাম বেশি। এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে দেড়শ টাকা লাগছে। অথচ গত বছর এমন সময় দেড়শ টাকা দিয়ে ১০ কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত। জিনিসপত্রের এমন দামে আমাদের মতো গরিব মানুষেরা অনেক কষ্টে আছে।

শুধু নিশিতা নয়, শীতের সবজির ভরা মৌসুমেও লাউ, করলা, টমেটো, শশা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনসহ সব ধরনের সবজিই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বেশ ভোগাচ্ছে। বাজারে ভরপুর সবজি থাকলেও সব ধরনের সবজির দাম এখনও বেশ চড়া।

১০০ টাকা থেকে গত সপ্তাহে ১৪০ টাকা হওয়া পেঁয়াজের কেজি এ সপ্তাহে ১৪০-১৫০ টাকা। পেঁয়াজের এই দামের বিষয়ে গোপালগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নোমান আলী বলেন, গত বছর এই সময়ে ৫ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ১১৫-১২০ টাকার মধ্যে। এখন এক কেজি পেঁয়াজ ১৩০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার যা পরিস্থিতি তাতে পেঁয়াজের দাম কমার খুব একটা সম্ভাবনা দেখছি না। অনেকে বেশি দামের কারণে মুড়ি পেঁয়াজ বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে পেঁয়াজের সরবরাহ এখন কম। পেঁয়াজ বাজারে আমদানি (সরবরাহ বাড়া) না হলে দাম কমার বদলে উল্টো বাড়বে।

বিভিন্ন কাঁচাবাজার দোকান ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতো করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। শশা বিক্রি হচ্ছে ২০-৪০ টাকা কেজি দরে। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৬০ টাকা। দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা।

নতুন গোল আলু ২০-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজিতে। বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। মাঝারি আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৯০ টাকা পিস।

মিয়াপাড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, এই সময় শীতের সব সবজি বাজারে ভরপুর থাকে। এ কারণে দামও কম থাকে। ফলে মানুষ সবজি কিনে শান্তি পায়। কিন্তু এবার সে সুযোগ নেই। সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। একটা দুইটা বেশি সবজি কেনার উপায় নাই। মূলত বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় দাম এমন বাড়তি।

এদিকে মাছ মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০-৫০০ টাকা। তেলাপিয়া ১৩০-১৭০ টাকা, শিং ৩০০-৪৫০ টাকা, শোল মাছ ৪০০-৭৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, টেংরা ৪৫০-৬০০ টাকা, নলা ১৮০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে। পাকিস্তানি কক মুরগির বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৪০ টাকা কেজিতে। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা প্রতিকেজি। গরুর মাংস ৫৫০-৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭০০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।