পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার ৩ স্কুলছাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,  পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে অপহরণের পর গণধর্ষণের শিকার হয়েছে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া তিন ছাত্রী। রোববার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাতকুয়া পাহাড়ি এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক মেয়ের বাবা বাদী হয়ে সোমবার সকালে অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তারা সকলেই ঘাটাইল এস ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী।

মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রোববার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির চার ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী দুপুর দেড়টার দিকে তারা ঝড়কা এলাকায় যায়। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বন্ধু হৃদয় ও শাহীন। পরে তারা আশিক নামের এক ব্যক্তির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে সাতকুয়া এলাকায় সেনাবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জের উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘুরতে যায়। এ সময় পাঁচ-সাতজন ব্যক্তি তাদের ঘিরে ফেলে। অপহরণ করে সাতকোয়া বনের গভীরে নিয়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীদের পরিবারের কাছে ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হৃদয় ও শাহীনকে মারধর করে দুর্বৃত্তরা। তিন ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও আরেক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করে অপহরণকারীরা। দুপুর দুইটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত আটকে রেখে চলে এ পাশবিকতা।

পরে ওই চার ছাত্রী সেখানে তাদের একজনের নানীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়। অভিভাবকরা থানা পুলিশকে জানালে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এদিকে ছাত্রীদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ওই দুই বন্ধুও পলাতক রয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার এক স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। নির্যাতনের শিকার ছাত্রীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, রোববার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু ওই ছাত্রীরা স্কুলে আসেনি। শুনেছি বিদ্যালয়ে না এসে তারা বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে এই ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আটককৃতদের নাম বলতে রাজি হয়নি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।