‘ট্যাক্সে সহায়তা না দেয়া হলে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক,ট্যাক্সে সহায়তা না দেয়া হলে ‘পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ’ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি জসিম উদ্দিন। রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে হোটেলে এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড (ইআরএফ) বা রফতানি প্রস্তুতি তহবিল কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইআরএফ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ইসি৪জে প্রকল্পের একটি ম্যাচিংগ্রান্ট কর্মসূচি। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ইআরএফ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। এই কর্মসূচিটি বাংলাদেশের চারটি সম্ভাবনাময় খাতের রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করবে। এসব খাত হচ্ছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশলপণ্য। বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় পরিবেশগত, সামাজিক এবং গুনগত মান পূরণের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের ম্যাচিং গ্র্যান্ট প্রদান করা হবে।

বাণিজ্য সচিবের উদ্দেশ্যে বিপিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যখন ট্যাক্স সংক্রান্ত পলিসি গ্রহণ করে তখন সরকারের যে ভিশন ‘পণ্যের বৈচিত্রকরণ’ সেটা ভুলে যায়। দেখা যাচ্ছে তৈরি পোশাক খাতকে সে সুবিধা দেয়া হয়, সে সুবিধাটাও ছোট ছোট খাতকে দেয়া হয় না।’

‘যাদের দিলে বেশি লাভবান হবে, তাদের দিতে ভুলে যায়। আমি আশা করবো বর্তমান বাণিজ্য সচিব এ বিষয়গুলো দেখবেন।’

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্লাস্টিক রফতানি জন্য আমাদের কর্পোরেট ট্যাক্স দিতে হয় ৩৫ শতাংশ। অথচ তৈরি পোশাক রফতানিতে কর্পোরেট ট্যাক্স দিতে হয় ১২ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ। অথচ ১০ শতাংশ হওয়া উচিত ছিল, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ার ও লেদারের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘এ কাজগুলো আমাদের করতে হবে। না হলে কিন্তু আমদের পণ্যে বৈচিত্র্যতা আসবে না। পণ্যে বৈচিত্রতা আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন, বাস্তবে আবার এটা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আজকের প্রকল্পে প্লাস্টিককে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ প্লাস্টিকের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা প্লাস্টিক খাত থেকে বছরে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি করি। প্রায় ২৭টি দেশে প্লাস্টিক রফতানি হয়। রফতানি প্রবৃদ্ধিও খুব বেশি। ’

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘তৈরি পোশাক খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে। মোট রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশ পোশাক থেকে আসে। আর ১৫ শতাংশে আমরা সবাই চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড (ইআরএফ) বা রফতানি প্রস্তুতি তহবিল কর্মসূচিতে যে চারটি খাতকে রাখা হয়েছে এগুলো প্রত্যেকটির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিকে গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি কোনো দূষণ করে না। ১০০ ভাগ রিসাইকেল করে ফেলে।

তিনি বলেন, ‘ক্যাপাসিটির কারণে অনেক সময় আমাদের রফতানি অর্ডার ছেড়ে দিতে হয়। আমাদের দেশে যদি আরও কমপ্লায়ান্স ইন্ডাষ্ট্রি থাকতো তাহলে আমার অর্ডারটা আরেক জনকে দিয়ে দিতে পারি। আমি মনে করি আজকের প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়ান্স হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি হলেন শেখ ফজলে ফাহিম, ইআরএফ প্রকল্প পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবাইদুল আযম, ইআরএফের ডেপুটি টিম লিডার ইমদাদুল হক প্রমুখ।