Uncategorized

গোপালগঞ্জের ভেড়ার বাজার আশ্রয়নে তহশিলদারের ব্যাপক দূর্নিতীর অভিযোগ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় গোপালগঞ্জ জেলা সদর উপজেলা হরিদাসপুর ইউনিয়নের ভেড়ার বাজারে গড়ে উঠেছে ভূমিহীন, অসহায়, গরিবদের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প। সরকার এই প্রকল্পের সমস্ত ঘর বিনামুল্যে প্রদান করছে ভুমিহীনদের মাঝে।

প্রথম পরিকল্পনায় সরকার ভেড়ার বাজার নদীর কুলে ৬৫ টি ঘর নির্মান করে এবং ৬৫ টি পরিবারের মাঝে প্রদান করেন। পরবর্তীতে আবারো সরকার ৩২টি ঘরের কাজে হাত দেন। নদীর কুলে ভাংগন দেখা দিলে, জায়গা পরিবর্তন করে ৩৬ বছর যাবৎ বসবাসকারী ঋষি সম্প্রদায়ের ঐ জায়গাটা নির্ধারন করেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন ।

তাদের উপর ভরসা করে ঋষি পরিবারের লোকজন জায়গা ছেড়ে দেয়। ঋষি পরিবারের সদস্যদের আশ্বাস দেওয়া হয় প্রত্যেকটি পরিবারকে একটি করে ঘর দেওয়া হবে। ঋষি পরিবারের লোকজনের আগে যেখানে ঘর গুলি ছিল, তারা সেই খানে নির্মিত আশ্রায়নের ঘরেই উঠলো। ৩/৪ মাস অতিবাহিত হবার পর হঠাৎ সহকারী তহশিলদার ভুমি ভেড়ার বাজারের ঘরে ওঠা ঋসি সম্প্রদায়ের লোকজনকে বলেন তোমরা প্রত্যেক ঘর প্রতি আমাকে ৫০০০ হাজার টাকা করে দিতে হবে নতুবা ঘর থেকে নেমে যেতে হবে।

তহশিলদারের কথায় ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজন অসন্তোষ্ট হয়ে যায়। ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজন টাকা দিতে নারাজ ও তহশিলদারের বিরুদ্ধে এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ জানান। কোন উপায় না দেখে সহকারী তহশিলদার কাওসার গোপালগঞ্জ ভুমি অফিস থেকে লোকজন ও এক গাড়ি পুলিশ নিয়ে হাজির হয় ভেড়ার বাজার আশ্রয়নে আমাদেরকে ঘর থেকে নামিয়ে দেওয়া জন্য। সেখানে পুলিশ ও ভূক্তভোগীদের মাঝে বাক বিতন্ডিতার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও ঋষিদের মাঝে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনমনে অসন্তোষ দেখা দেয়।

সরেজমিনে গেলে জানা যায়, ঋষি পরিবারের যারা ৩/৪ মাস যাবত ঘরে উঠেছে ও নতুন ঘরে যারা উঠেছে তাদের নামেই বিদ্যূতের লাইন নেওয়া রয়েছে। তাদের কাছে ভেড়ার বাজার বাজার ভুমি অফিসের সহকারি তহসিলদার কাওসার ৫০০০ হাজার করে টাকা ঘুষ চেয়েছেন না দিতে পারলে ঘর থেকে নেমে যেতে বলেছেন। আমাদের প্রশ্ন এই ঋষি ও মুসলমানদের নাম কেটে দূর দুরান্তের থেকে আশা লোকজনদের ঘর দেওয়া হচ্ছে এরা কারা। কে এদের ঘর দিতে সাহায্য করছে? কিসের বিনিময়ে এগুলো করছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আসলাম মোল্লা বলেন, আমরা ও আমাদের পরিবারের সদস্যরা এই ঋষি পাড়ায় দীর্ঘ্য ৩৬ বছর বসবাস করে আসছি। চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারের কথায় যায়গা ছেড়েছি, আমাদেরকে নতুন ঘর দেবে বলে। এখন তহসিলদার কাওসার আমাদের কাছে ৫০০০ হাজার করে টাকা চাইছে, না দিতে পারলে ঘর থেকে নেমে যেতে বলে।

ভুক্তভোগী সালেহা ভিক্ষুক বলেন, আমরা বহু বছর যাবত এই যায়গায় বসবাস করে আসতেছি। ওরা আমাদের বলেছিল তোমরা যায়গা ছেড়ে দিলে একটা করে নতুন ঘর পাবা। আমরা ৪ মাস যাবৎ ঘরেও উঠেছি। আমাদের ঘর থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকী দিচ্ছে তহশিলদার কাওসার। টাকা না দিতে পারলে ঘর থেকে নেমে যেতে হবে।

বিস্বস্ত সূত্রে জানা যায় গত কয়েক মাস আগে আশ্রয়নের এই ঘরগুলো কেন্দ্র করে স্থানীয় সুবিধা বঞ্চিত ভুমিহীন সাধারন জনগন সহকারী তহশিলদার কাওসারের কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে ঝাড়– মিছিল করে ভেড়ার বাজার তহশিল অফিস ঘেরাও ও লাঞ্চিত করেন।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা সদর ১১ নং হরিদাসপুর ইউনিয়নর ভেড়ারবাজার সহকারী তহশিলদার কাওসার সাহেবের অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জানতে চাইলে, তিনি আমাদের সামনে কথা বলতে অস্বিকার করেন এবং উত্তেজিত কন্ঠে বলেন আমি গোপালগঞ্জের চর মানিকদাহ কাজীর বাজারের ছেলে। আমি কাউকে পরোয়া করিনা। আপনি ইউএনও সারের সাথে কথা বলেন। আমি আপনার সাথে কথা বলতে রাজি না। ঘটনাটি হরিদাসপুর ইউনিয়নের জনগনের মাঝে বিরূপ উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিশীঘ্রই সমস্যার সমাধান করা প্রয়েজন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি অকর্ষন করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button